.

এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে পদকহীন বাংলাদেশ, পাকিস্তানের কাছে ৩১রানে হার।

এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে পদকহীন বাংলাদেশ, পাকিস্তানের কাছে ৩১রানে হার। ছবির ক্যাপশন : নিজস্ব প্রতিবাদীদের ছবি ও তথ্যচিত্র
.


নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রীড়া ডেস্ক

এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে এবার কোনো পদক ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। ফলে এবারের আসরে নারী ক্রিকেটে চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দলকে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ রানের জয় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের জন্য এই ম্যাচটি ছিল পদক জয়ের শেষ সুযোগ। সোনা ও রুপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই ব্যাটিংয়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি দলটি।

বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় গতিতে রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। নির্ধারিত ওভারের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও লক্ষ্য থেকে অনেক দূরেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ২০ ওভারে ১১৪ রান করায় জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবধান আর পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এবারের ফল বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বড় ব্যতিক্রম। ২০১০ ও ২০১৪ সালের আসরে বাংলাদেশ নারী দল রুপার পদক জিতেছিল। দুই আসরেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। পরে ২০২২ সালের হাংঝু এশিয়ান গেমসেও পদক জয়ের স্বাদ পায় দল। সেবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ।

এই ইতিহাসের কারণে এবারের আসরেও বাংলাদেশের কাছ থেকে ভালো ফলের প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচেও পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়ে পদকহীন থাকতে হলো দলকে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ওই ম্যাচে ১১৪ রানের ব্যবধানে হারের পরই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আসে। ভারতের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও ব্যাটিংয়ে সেই পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ব্রোঞ্জের ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হিসেবে এই লক্ষ্যকে অসম্ভব বলা না গেলেও গুরুত্বপূর্ণ পদকের ম্যাচে সেটি তাড়া করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

একপর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে। ব্যাটাররা উইকেটে থাকলেও দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। ফলে শেষ কয়েক ওভারে ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনাও কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১১৪ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলে দ্রুত রান সংগ্রহ এবং লক্ষ্য তাড়া করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। শুধু উইকেটে টিকে থাকা নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এশিয়ার নারী ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দল নিজেদের ক্রিকেট কাঠামো ও পারফরম্যান্সে উন্নতি করছে। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের দলকেও ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আরও ধারাবাহিক হতে হবে।

তবে একটি টুর্নামেন্টের ফল দিয়ে পুরো দলের ভবিষ্যৎ বিচার করা ঠিক হবে না। এশিয়ান গেমসে পাওয়া অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বড় টুর্নামেন্টে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া, রান তাড়ার পরিকল্পনা এবং ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

এবারের আসরে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল পদক জিততে না পারলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ২০১০ ও ২০১৪ সালে রুপা এবং ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ জয়ের পর এবার চতুর্থ স্থানে শেষ করাটা নিঃসন্দেহে প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক ফল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ রানের এই হার বাংলাদেশের সামনে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে কাজ করার সুযোগও তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের বড় আসরে আরও ভালো ফল করতে হলে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা, চাপের সময় উইকেট ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দ্রুত রান করার সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের অভিযান শেষ হয়েছে পদক ছাড়াই। পাকিস্তানের ১৪৫ রানের জবাবে ১১৪ রান করতে পারায় ৩১ রানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালের সুযোগ হারিয়েছিল দল। ফলে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচটিই ছিল শেষ সুযোগ, কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

এখন এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই দলের প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতায় আবারও পদকের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : MOHAMMAD MOINUDDIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ

সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ